Islamic Golpo Antor King

 

✍️ লিখেছেন: Md Antor Babu


রিমা একটা ধর্মভীরু মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই নামাজ, কুরআন আর পর্দার শিক্ষা তার জীবনের অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও সে নিজের চেহারা ও আচরণে ইসলামের নিয়ম মানতো।


একদিন লাইব্রেরিতে বসে কুরআনের অনুবাদ পড়ছিল সে। হঠাৎ পাশের টেবিলে বসা এক তরুণের চোখ পড়ে তার দিকে — নাম রায়েদ। শান্ত চোখ, মুখে দাড়ি, আর হাতে ইসলামিক বই। রিমা মাথা নিচু করে নেয়, কিন্তু মনটা কেমন জানি অদ্ভুত হয়ে যায়।


সেদিন থেকে রায়েদ প্রায়ই ঐ লাইব্রেরিতে আসে, কিন্তু কখনও কথা বলে না। শুধু দূর থেকে দেখে যায়। রিমা বুঝতে পারে, এই দৃষ্টির পেছনে অন্যরকম এক অনুভূতি আছে, কিন্তু তারা দুজনেই চায় না হারাম পথে যেতে।


একদিন রায়েদ সাহস করে কাগজে কিছু লিখে টেবিলে রেখে যায়—


> “আমি আপনাকে কোনো কষ্ট দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, আপনি আমার ঈমানকে মজবুত করেছেন। যদি আল্লাহ চান, একদিন হালাল পথে দেখা হবে।”




রিমার চোখ ভিজে আসে। সে মনে মনে দোয়া করে—


> “হে আল্লাহ, যদি এই অনুভূতি পবিত্র হয়, তাহলে আমাদের হালালভাবে এক করো।”




দুই বছর পর, রিমা যখন পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরে যায়, তার বাবা-মা প্রস্তাব নিয়ে আসে — এক ধর্মপ্রাণ যুবকের পরিবারের কাছ থেকে। নাম শুনে তার বুক কেঁপে ওঠে — রায়েদ আহমেদ।


নিশ্চুপ হয়ে যায় রিমা। আল্লাহ নিশ্চয়ই দোয়া কবুল করেছেন।

নিকাহের দিন রায়েদ শুধু বলেছিল —


> “আমি তোমার চোখে তাকাতে পারিনি আগে, কারণ আমি চেয়েছিলাম তোমাকে জান্নাতের পথে দেখতে।”




রিমা চোখ নামিয়ে হাসে, মনে মনে বলে —


> “এটাই তো সত্যিকারের ভালোবাসা — যা আল্লাহর ভয় আর দোয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকে।”





---


🕊️ শিক্ষা:

ভালোবাসা হারাম নয়, যদি তা হয় হালাল পথে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। প্রকৃত ভালোবাসা কখনও লুকিয়ে থাকে না — তা

 দোয়ার ভেতর আল্লাহর কাছে রক্ষিত থাকে।

🌸 নামাজে দেখা


✍️ লিখেছেন: Md Antor Babu


বিকেলের রোদটা মসজিদের দেওয়ালে নরম ছায়া ফেলেছে। আজিম নামের তরুণটা একটু তাড়াতাড়ি এসে বসে ছিল মসজিদের কোণে। সে নিয়মিত নামাজ পড়ে, তবু আজ কেমন যেন মন অন্যরকম লাগছে।


আজিমের চোখে বারবার ভেসে উঠছে এক মুখ — মেহরিন।

মেয়েটি পাশের বাড়ির, খুব কম কথা বলে, কিন্তু প্রতিদিন বিকেলে সে তার ছোট ভাইকে মসজিদে নামাজে পাঠিয়ে দেয়, আর গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ না নামাজ শেষ হয়।


একদিন আজিম নামাজ শেষে বের হয়ে দেখে, মেহরিনের চোখ ভিজে আছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,


> “আপনি ঠিক আছেন?”




মেহরিন আস্তে বলল,


> “ভাইটা অসুস্থ ছিল, আজ নামাজে দাঁড়াতে পেরেছে, তাই খুশিতে চোখে পানি।”




আজিম হেসে বলল,


> “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তাকে শেফা দিন।”




এরপর থেকে দুজনেই কথা না বললেও একে অন্যের জন্য দোয়া করতো।

আজিম নামাজে দাঁড়ালে দোয়া করত —


> “হে আল্লাহ, যদি সে আমার জন্য হালাল হয়, তবে তাকেই আমার জীবনের সঙ্গী বানাও।”




কয়েক মাস পর, এক সকালে আজিমের মা বললেন —


> “বাবা, আজ এক ভালো পরিবারের মেয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। মেয়েটির নাম মেহরিন।”




আজিম চুপ করে গেল। চোখে পানি এসে গেল, মনে মনে বলল —


> “আল্লাহ, তুমি আমার দোয়া কবুল করেছো।”




নিকাহের দিন মেহরিন হাসিমুখে বলেছিল,


> “আমি প্রতিদিন নামাজে দোয়া করতাম, যেন আপনি আমার স্বামী হন। আজ আল্লাহ আমাদের মিলিয়ে দিলেন।”




আজিম মাথা নিচু করে বলল,


> “আমরা নামাজে দেখা করেছি, আর নামাজেই আল্লাহ আমাদের এক করেছেন।”





---


🕊️ শিক্ষা:

ভালোবাসার শুরু যদি হয় নামাজে, তাহলে শেষ হয় জান্নাতে।

যে সম্পর্ক আল্লাহর নামে শুরু হয়, সেটাই সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা।


Post a Comment

0 Comments